মেনু নির্বাচন করুন
পাতা

মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযোদ্ধা

নারায়ণগঞ্জে মুক্তিযুদ্ধের সং ক্ষিপ্ত ইতিহাস

 

বন্দর নগরী নারায়ণগঞ্জ শুধু বিশ্বের ডান্ডি মানচেষ্টার ছিলনা- স্বদেশী আন্দোলনে ভূমিকা ছিল- বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের জন্ম হয়েছিল নারায়ণগঞ্জে পাইকপাড়া নিউচুয়েল ক্লাব থেকে।

 

নারায়ণগঞ্জে চাষাড়া বাইতুল আমানে খান সাহেব এম. ওসমান আলী ঢাকার নবাবদের হারিয়ে প্রথম এম.এল.এ নির্বাচিত হয়েছিল। আর দ্বিতীয় এম.এল.এ নির্বাচিত হয়েছিলেন বাবুরাইলের তথা দেওভোগ ইউনিয়নের সন্তান মরহুম আলমাছ আলী। এই বাইতুল আমান থেকেই ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন হয়েছিল-নারায়ণগঞ্জের অনেক সন্তান যেমন শফি হোসেন খান- মাহবুব জামিল- মোস্তফা সারোয়ার-খান সাহেব সহ এই বাইতুল আমান থেকেই গ্রেফতার হয়েজেল খেটেছিলেন।

 

২৯ মার্চ ১৯৭১ সন। শহীদ বাঙ্গালী এবং আঃ রহমান নারায়ণগঞ্জ থেকে ২৮ শে মার্চের পলাতক মানুষেরআশ্রয় ও খাওয়ার সুবন্দোবস্ত এবং আগরতলায় যাবার ব্যবস্থা করে দেন। বিবিসি-র সাংবাদিক নিজামুদ্দিন আহম্মদও এই সেবা থেকে বাদ পড়েননি। মুন্সীগঞ্জ-বিক্রমপুরের বিবিসি-র রিপোর্টের প্রেক্ষিতেই তাঁকে বাড়ী থেকে ধরে এনে মেরে ফেলে পাক বাহিনী।

নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ মহিউদ্দিন আহমদ খোকা ভাই জীবন বাঁচাতে নারায়ণগঞ্জথেকে পলাতকমানুষগুলোর আশ্রয় ও থাকা খাওয়ার এমনকি আগরতলাতে যাওয়ার সুব্যবস্থাও করে দিতেন।

 

 

১৪ ডিসেম্বর বন্দর রেললাইনঐতিহাসিকঅপারেশন

 

চারিদিকে যুদ্ধ আর যুদ্ধ। স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র খুললেই বোঝা যায় বিজয় হয়তো নিশ্চিত ও আসন্ন। ১১ই ডিসেম্বর পূর্ব আগরতলা থেকে একের পর এক সংবাদ আসছিল যে মিত্র বাহিনী অচিরেই আমাদের সাথে যুক্তহয়ে শক্তি বহুগুন বৃদ্ধি করবে। কারণ পার্শ্ববর্তী দাউদকান্দি থেকে মিত্র বাহিনীর সৈন্যরা আমাদের ক্যাম্পে অবস্থান নিতে পারে। তাই গিয়াস উদ্দিন বীর প্রতীকের নেতৃত্বে সেই দিনের দেড় প্লাটুন মুক্তিযোদ্ধা সদা প্রস্ত্তত ছিল।

সন্ধ্যায় কিছুক্ষণ পরে দেখা গেল মিত্র বাহিনীর ১ম Advance Party এসে উপস্থিত। আমাদেরGreen Signal পেয়ে মিত্র বাহিনীর আগমন শুরু হলো। ১ম দিনের মধ্যেই ২ প্লাটুন সৈন্য এসে কাইকারটেক নামক স্থানে মু&&ক্ত বাহিনীর ক্যাম্পে রিপোর্ট করতে শুরু করে। ২য় দিনে আরো বাকী ২ প্লাটুন মিত্র বাহিনীর সৈন্য এসে আমাদের সাথে যোগ দেয়। ১৫ই ডিসেম্বর সকাল ১০ টায় এম.পি সিং এর নেতৃত্বে ৪টি গ্রুপে চারদিকে রেকি করতে বের হয়। ১ম গ্রুপ গিয়াস উদ্দিন বীর প্রতীকে নেতৃত্বে ২য় গ্রুপ সাহাবুদ্দিন খান সবুজ ও এন.পি. সিংহের নেতৃত্বে, ৩য় গ্রুপ জি.কে বাবুল ও মিজানুর রহমান ঢালীর নেতৃত্বে এবং ৪র্থগ্রুপ নুরুজ্জামান ও দুলালের নেতৃত্বে বন্দরের কোন কোন স্থানে পাক বাহিনী ঘাটি করে আছে তা দুপুর একটার মধ্যে রেকি সম্পন্ন করে ফিরে আসে। পরে গিয়াসউদ্দিন বীর প্রতীককে নিয়ে এন.পি সিং ও চার গ্রুপের সেনারা বিকাল তিনটার বৈঠকে মিলিত হয়।

১৫ ডিসেম্বর বিকাল সাড়ে চারটায় অপারেশনের উদ্দেশ্যে সর্বমোট সাড়ে পাঁচ প্লাটুন মুক্তিযোদ্ধা ও মিত্র বাহিনীর সৈন্যরা একত্র হয়ে হানাদার বাহিনীর ক্যাম্পে হামলার উদ্দেশ্যে যাত্রা করে। দীর্ঘ ১৮ ঘন্টা সম্মুখ যুদ্ধের পর পূর্বাঞ্চল কমান্ডের চারটি যুদ্ধক্ষেত্র যথাঃ

(ক)মদনগঞ্জ রেললাইন ক্রস পয়েন্ট।

(খ)মদনপুর চৌ-রাস্তা জংশন।

(গ)কুড়িপাড়া রেল ষ্টেশন হতে গোকুল দাসের বাগের চৌ-রাস্তা পর্যন্ত।

(ঘ)বন্দর ও কলাবাগান ক্রস পয়েন্ট হইতে নবীগঞ্জ রেল ষ্টেশন হয়ে দাসের গাঁও পর্যন্ত।

 

অঞ্চল যুদ্ধ সংঘটিত হয। এই যুদ্ধে মিত্র বাহিনীর ৮জন সৈন্য মারা যায় এবং ২৫জন মিত্র বাহিনী ও মুক্তি বাহিনীর (দাউদকান্দি মুক্তি বাহিনীর কমান্ডার কাওছার সহ) সেনারা আহত হয়। নিহত ৮জন মুক্তি বাহিনীর সৈন্যকে মিরকুন্ডী নামক স্থানে রাস্তার পার্শ্বে শেষকৃত্য সম্পন্ন করা হয়। পাক বাহিনীর আত্মসমর্পনের মধ্য দিয়ে ১৬ ই ডিসেম্বর ১১ টায় স্বাধীনতার বিজয় ঘোষণা করা হয়। এই যুদ্ধে গিয়াস উদ্দিন বীর প্রতীকের নেতৃত্বে সাহাবুদ্দিন খান সবুজের গ্রুপ, মোঃ সেলিমের গ্রুপ, মোঃ আঃ আজিজের গ্রুপ, তপনের গ্রুপ, হাজী গিয়াসউদ্দিনের গ্রুপসহ দেড় প্লাটুন মুক্তিযোদ্ধারা অংশগ্রহণ করেন।

 

 

 

 

 

নারায়ণগঞ্জে প্রথম শহীদ হলেন যারা। ১৯৭১ সনের ২৭ শে মার্চ নারায়ণগঞ্জের প্রথম যাঁরা শহীদ হলেনঃ

 

(১)শহীদ শরীয়ত উল্লাহ

(ব্যাংক ম্যানেজার)

(১২)শহীদ তৌফিক সাত্তার

(সাবেক জাতীয় পার্টির মন্ত্রী আঃ সাত্তারের পুত্র)

(২)শহীদ জিন্নাহ

(১৩) শহীদ চুন্নু মিয়া

(৩)শহীদ ফকির চাঁন

(১৪)শহীদ আঃ লতিফ

(৪)শহীদ ফটিক চাঁন

(১৫)শহীদদিল মোহাম্মদ

(৫)শহীদ সাচ্চু

(১৬)শহীদ আঃ সাত্তার

(বীর মুক্তিযোদ্ধা জাহাংগীর খোকার শ্বশুর)

(৬)শহীদ আক্তার

(১৭) শহীদ আঃ সামাদ (উত্তর মাসদাইর)

(৭)শহীদ আক্তার

(১৮)শহীদ আঃ মজিদ

(৮)শহীদ মোঃ মুকুল

(১৯) শহীদ ওমর আলী

(৯)শহীদ ক্যাশিয়ার সাত্তার

(২০) শহীদ মিসেস ছমির উদ্দিন

(১০) শহীদ জাসিমুল হক

(নারায়ণগঞ্জ পৌরসভার প্রথম মুসলমান

চেয়ারম্যান- আহম্মদ চেয়ারম্যানের জামাতা)

 

(১১) শহীদ লায়লা হক

(নারায়ণগঞ্জ পৌরসভার প্রথম মুসলমান

চেয়ারম্যান- আহম্মদ চেয়ারম্যানের কন্যা)

 

 

পাক বাহিনীর মূখোমুখী নারায়ণগঞ্জের দামাল ছেলেরা

 

২৫ শে মার্চ সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জ জাহাজী শ্রমিক নেতা আব্দুল আহাদ, নাজিম উদ্দিন মাহমুদ ও আরো অনেকে গণআন্দোলনে শহীদের সাহায্যার্থে একটি অনুদানের চেক নিয়ে বঙ্গবন্ধুর ৩২ নম্বর বাসায় দেখা করেন। এ সময় বন্ধ

 

নারায়ণগঞ্জের শহীদ মুক্তিযোদ্ধা যারা

(১)বীরমুক্তিযোদ শহীদআবুবকর ছিদ্দিক

শহীদ আবুবকর ছিদ্দিক, পিতা- মরহুম আবদুল করিম বেপারী, মাতা- অছিয়া খাতুন, গ্রাম- আলীনগর, মদনগঞ্জ, বন্দর ১৯৪৯ সালের ২১ শে জুলাই জম্ন গ্রহণ করেন। ৭১ সালে ভারত গিয়ে পূর্বাঞ্চলীয় হেডকোর্য়াটার (মেলাঘর ক্যাম্প) নেভাল কার্যক্রমের উপর প্রশিক্ষণ নিয়ে সুইমিং প্লাটুনের অর্ন্তভূক্ত হয়ে বিভিন্ন এলাকায় যুদ্ধ করেন। কুমিল্লা জেলার দেবিদ্ধার উপজেলার কালীবাড়ীর সন্নিকটে পাকসেনা ও রাজাকারদের সাথে সম্মুখ যুদ্ধে অংশগ্রহণকালে পাকবাহিনীর গুলিতে তিনি শহীদ হন। তাঁকে কুমিল্লার দেবিদ্বার এলাকায় সমাহিত করা হয়। ছাত্র জীবনে তিনি কবিতা লিখতেন এবং ভাল স্কাউট কর্মী ছিলেন।

 

(২) বীর মুক্তিযোদ্ধাশহীদ কামাল উদ্দিন

শহীদ কামাল উদ্দিন, পিতা- মরহুম মোঃ কালু সরকার, মাতা ফিরোজা বেগম ১৯৪৬ সালে নয়াপাড়া মদনগঞ্জ, বন্দরে জন্মগ্রহণ করেন। ৮ম শ্রেণী পর্যন্ত তিনি অধ্যয়ন করেন। যুদ্ধ অংশ গ্রহণের জন্য প্রশিক্ষণ নিতে তিনি ৩ রা এপ্রিল ৭১ তিনি ভারতে চলে যান। ভারতের মেঘালয়ের ট্রেনিং ক্যাম্প হতে প্রশিক্ষণ নিয়ে বন্দর থানার সোনাকান্দা ইউনিয়নের বিভিন্ন খন্ড খন্ড যুদ্ধে অংশ গ্রহণ করে। ৭১ সালের ২৪ শে ডিসেম্বর এলাকার ওৎ পেথে থাকা আলবদর ও রাজাকারদের হাতে গুপ্ত হত্যার স্বীকার হন।

 

(৩) বীর মুক্তিযোদ্ধাশহীদ মোঃ মোশারফ হোসেন

শহীদ মোঃ মোশারফ হোসেন, পিতা মরহুম আবুল মাজন, মাতা- মাহমুদা বেগম, গ্রাম- আলী সাহারদী, মদনগঞ্জ, বন্দর, ১৯৫০ সালে ১০ ই নভেম্বর নিজ গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন।

যুদ্ধে অংশগ্রহণের জন্য তিনি ৭১ সালের এপ্রিলে বাড়ী ত্যাগ করে ৬ নং সেক্টর কমান্ডের অধীনে মেজর নওয়াজেশের কমান্ডে উইং কমান্ডার এক বাশার বীর উত্তম এর অধীনে সক্রিয় যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। ৭১ সালের ৯ ই ডিসেম্বর সিরাজগঞ্জের রেল ষ্টেশনে পাকহানাদারদের সাথে সম্মুখ যুদ্ধে তিনি শাহাদাৎ বরণ করেন। ঐ যুদ্ধে পাকহানাদাররা সেখানে আত্মসমর্পনে বাধ্য হয়। শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধা মোশারফ এস,এস, সি পাশ ছিলেন।

(৪) বীর মুক্তি যোদ্ধা শহীদ মোঃ আওলাদ হোসেন

শহীদ মোঃ আওলাদ হোসেন খান, পিতা- মোঃ আলমাস উদ্দিন খান, গ্রাম- সোনাচরা ১ নং ঢাকেশ্বরী কটন মিলস, বন্দর, জেলা- নারায়ণগঞ্জ।

১৯৭১ সালে মুক্তি পাগল সেনারা যখন চারিদিকে যুদ্ধের দামামা বাজিয়ে পাকসেনাদের একের পর এক পর্যুদস্ত করছিল। ঠিক সেই সময়েই কুমিল্লার চৌদ্দ গ্রাম উপজেলায় বেতিয়ারা গ্রামের রনাঙ্গনে সম্মুখে যুদ্ধের

 

(৫) বীর মুক্তিযোদ্ধাশহীদ মোঃ ওয়াহিদুর রহমান

শহীদ মোঃ ওয়াহিদুর রহমান, পিতামৃত- মতিউর রহমান, মুক্তারকান্দি ডিক্রীরচর ২৯ শে নভেম্বর পাক বাহিনীর সাথে সম্মুখ যুদ্ধে শহীদ হন। কমান্ডার মোঃ সিরাজুল ইসলাম দেওভোগ, নারায়ণগঞ্জ তাকে সানাক্ত করেন। তাকে মুক্তারকান্দি কবরস্থানে দাফন করা হয়। শহীদের ব্যক্তিগত নম্বর- ০১০৪০১০২০২।

 

(৬) বীর মুক্তিযোদ্ধাশহীদ আঃ রউফ (বাচ্চু মিয়া)

শহীদ আঃ রউফ (বাচ্চু মিয়া), পিতা- হাবিবুর রহমান, ৯৬ ব্রাঞ্চ রোড, মজিদ খানপুর, নারায়ণগঞ্জ। তিনি সোনারগাঁও পাক বাহিনীর হাতে শহীদ হন।

শহীদের ব্যক্তিগত নম্বর- ০১০৪০১০১৯৬।

 

৭। বীর মুক্তিযোদ্ধাঃ শহীদ লক্ষ্ণীনারায়ণগঞ্জ দেবনাথ।শহীদ লক্ষীনারায়ণ দেবনাথ।

শহীদ লক্ষীনারায়ণগঞ্জ দেবনাথ, পিতা-ধীরেন্দ্র নাথ দেবনাথ, ৮৬ মোবারক শাহ রোড, খানপুর, নারায়ণগঞ্জ। ১২ ই জুলাই নারায়ণগঞ্জ শহরে গেরিলা অপারেশনে শহীদ হন। মোঃ গিয়াস উদ্দিন বীর প্রতীক, তল্লা, নারায়ণগঞ্জ তাকে সনাক্ত করেন। পাক বাহিনীদের হাত থেকে তার লাশ পাওয়া যায়নি।

তার ব্যক্তিগত নম্বর ০১০৪০১০১১৮।